গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

লুটপাটকারীদের ব্যাংকের মালিকানায় ফেরালে নতুন সংকটের আশঙ্কা

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:৪১ পিএম, ১২ মে ২০২৬ | আপডেট: ১০:২৪ এএম ২০২৬
লুটপাটকারীদের ব্যাংকের মালিকানায় ফেরালে নতুন সংকটের আশঙ্কা
ছবি

ছবি সংগৃহীত

ব্যাংক খাত থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে চলে যাওয়া ব্যক্তিরা ফের মালিকানায় ফিরলে নতুন করে সংকট তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যাংক উদ্যোক্তারা। এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তাঁরা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

সোমবার (১১ মে) রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের নেতারা অংশ নেন। বৈঠকে গভর্নর জানান, ইসলামি ধারার পাঁচ ব্যাংকের একীভূত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং নামমাত্র শর্তে পুরোনো মালিকদের ফেরার সুযোগ দেওয়া হবে না।

বৈঠকে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংশোধিত আইনে যাঁরা ব্যাংক থেকে অর্থ নিয়ে গেছেন, তাঁদের ফেরার সুযোগ রাখা হয়েছে—এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। অতীতে অনিয়ম ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিরা ফিরে এলে ব্যাংক খাতে নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।

বৈঠক শেষে সংগঠনটির সভাপতি ও ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, কারা ব্যাংক থেকে অর্থ নিয়ে গেছে, তা সাধারণ মানুষও জানে। তাঁদের ফেরার সুযোগ দেওয়া হলে জনগণের আস্থা আরও কমে যাবে এবং নতুন সংকটের ঝুঁকি তৈরি হবে। তিনি এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা প্রণয়নের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

তিনি জানান, গভর্নর আশ্বস্ত করেছেন যে সংশোধিত আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হলে সাবেক মালিকদের ফেরার সুযোগ থাকবে না। একই সঙ্গে চলমান পাঁচ ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়াও অব্যাহত থাকবে।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন এ কে আজাদ, শরীফ জহির, মনজুরুর রহমান ও রোমো রউফ চৌধুরীসহ বিভিন্ন ব্যাংকের শীর্ষ ব্যক্তিরা।

সভায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে একটি লিখিত প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। একদিকে বিপুল খেলাপি ঋণের চাপ, অন্যদিকে মূলধন ঘাটতি ও নিরাপত্তা সঞ্চিতির সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর মধ্যে সংশোধিত ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সংগঠনটি উল্লেখ করে, আইনি ফাঁকফোকরে অতীতে অর্থ আত্মসাৎকারীদের পুনরায় মালিকানায় ফেরার সুযোগ থাকলে তা দেশের আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা ও ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হবে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।

ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সংগঠনটি বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনায় একটি জাতীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি গঠন, অর্থঋণ আদালত আইন সংশোধন করে দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা এবং স্থগিতাদেশের অপব্যবহার রোধ। পাশাপাশি সংকটাপন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উৎসাহ বোনাস অব্যাহত রাখা, ব্যাসেল-৩ অনুযায়ী মূলধন পর্যাপ্ততা বজায় রাখতে কর ছাড় দেওয়া এবং পুনর্গঠনাধীন ব্যাংকগুলোর জন্য বিশেষ ‘ট্রান্সফরমেশন’ শ্রেণি চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
সানা/আপ্র/১২/৫/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়িয়ে ১,৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ
২৯ অক্টোবর ২০২৬

১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়িয়ে ১,৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ

বেসরকারি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বিভিন্ন পর্যায়ে অপারেটর, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতার মাশ...

এলপিজির দাম বাড়বে কি না, জানা যাবে বৃহস্পতিবার
২৮ অক্টোবর ২০২৬

এলপিজির দাম বাড়বে কি না, জানা যাবে বৃহস্পতিবার

গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩...

বিদেশি ঋণের অর্থছাড় কমেছে ৪২ শতাংশ, বাড়ছে পরিশোধের চাপ
২৮ অক্টোবর ২০২৬

বিদেশি ঋণের অর্থছাড় কমেছে ৪২ শতাংশ, বাড়ছে পরিশোধের চাপ

বিদেশি ঋণের অর্থছাড় কমছে, অন্যদিকে বাড়ছে আগের নেওয়া ঋণের সুদ-আসল পরিশোধের চাপ। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে...

নতুন বেতনকাঠামোর ব্যয় মেটাতে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে সরকার
২৮ অক্টোবর ২০২৬

নতুন বেতনকাঠামোর ব্যয় মেটাতে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে সরকার

নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও বকেয়া পরিশোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। ব...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে