গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

মেনু

লুটপাটকারীদের ব্যাংকের মালিকানায় ফেরালে নতুন সংকটের আশঙ্কা

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:৪১ পিএম, ১২ মে ২০২৬ | আপডেট: ১৪:০৯ এএম ২০২৬
লুটপাটকারীদের ব্যাংকের মালিকানায় ফেরালে নতুন সংকটের আশঙ্কা
ছবি

ছবি সংগৃহীত

ব্যাংক খাত থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে চলে যাওয়া ব্যক্তিরা ফের মালিকানায় ফিরলে নতুন করে সংকট তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যাংক উদ্যোক্তারা। এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তাঁরা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

সোমবার (১১ মে) রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের নেতারা অংশ নেন। বৈঠকে গভর্নর জানান, ইসলামি ধারার পাঁচ ব্যাংকের একীভূত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং নামমাত্র শর্তে পুরোনো মালিকদের ফেরার সুযোগ দেওয়া হবে না।

বৈঠকে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংশোধিত আইনে যাঁরা ব্যাংক থেকে অর্থ নিয়ে গেছেন, তাঁদের ফেরার সুযোগ রাখা হয়েছে—এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। অতীতে অনিয়ম ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিরা ফিরে এলে ব্যাংক খাতে নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।

বৈঠক শেষে সংগঠনটির সভাপতি ও ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, কারা ব্যাংক থেকে অর্থ নিয়ে গেছে, তা সাধারণ মানুষও জানে। তাঁদের ফেরার সুযোগ দেওয়া হলে জনগণের আস্থা আরও কমে যাবে এবং নতুন সংকটের ঝুঁকি তৈরি হবে। তিনি এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা প্রণয়নের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

তিনি জানান, গভর্নর আশ্বস্ত করেছেন যে সংশোধিত আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হলে সাবেক মালিকদের ফেরার সুযোগ থাকবে না। একই সঙ্গে চলমান পাঁচ ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়াও অব্যাহত থাকবে।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন এ কে আজাদ, শরীফ জহির, মনজুরুর রহমান ও রোমো রউফ চৌধুরীসহ বিভিন্ন ব্যাংকের শীর্ষ ব্যক্তিরা।

সভায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে একটি লিখিত প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। একদিকে বিপুল খেলাপি ঋণের চাপ, অন্যদিকে মূলধন ঘাটতি ও নিরাপত্তা সঞ্চিতির সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর মধ্যে সংশোধিত ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সংগঠনটি উল্লেখ করে, আইনি ফাঁকফোকরে অতীতে অর্থ আত্মসাৎকারীদের পুনরায় মালিকানায় ফেরার সুযোগ থাকলে তা দেশের আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা ও ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হবে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।

ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সংগঠনটি বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনায় একটি জাতীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি গঠন, অর্থঋণ আদালত আইন সংশোধন করে দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা এবং স্থগিতাদেশের অপব্যবহার রোধ। পাশাপাশি সংকটাপন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উৎসাহ বোনাস অব্যাহত রাখা, ব্যাসেল-৩ অনুযায়ী মূলধন পর্যাপ্ততা বজায় রাখতে কর ছাড় দেওয়া এবং পুনর্গঠনাধীন ব্যাংকগুলোর জন্য বিশেষ ‘ট্রান্সফরমেশন’ শ্রেণি চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
সানা/আপ্র/১২/৫/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে: তথ্যমন্ত্রী
১৯ মে ২০২৬

দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে।...

পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকার প্রস্তাব!
১৯ মে ২০২৬

পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকার প্রস্তাব!

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার। পরিকল্প...

তিন ধরনের নতুন নোট ছাড়লো বাংলাদেশ ব্যাংক
১৯ মে ২০২৬

তিন ধরনের নতুন নোট ছাড়লো বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক ১০০০, ৫০০ ও ১০ টাকা মূল্যমানের নতুন ব্যাংক...

গ্রামীণ ব্যাংকের সুদহার কেন স্বাভাবিক ব্যাংকের মতো নয়, প্রশ্ন হাই কোর্টের
১৮ মে ২০২৬

গ্রামীণ ব্যাংকের সুদহার কেন স্বাভাবিক ব্যাংকের মতো নয়, প্রশ্ন হাই কোর্টের

গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার কেন দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সুদের হারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

গ্রামীণ ব্যাংকের উচ্চ সুদহার নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে হাইকোর্টের রুল জারি

গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার কেন দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সুদের হারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাই কোর্ট। আপনি কি মনে করেন- গ্রামীণ ব্যাংক সবচেয়ে চড়া সুদ আদায় করে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 14 ঘন্টা আগে