গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

মেনু

আসন্ন বাজেটে কালোটাকা বৈধকরণের সুযোগ ফেরার ইঙ্গিত

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:৩৩ পিএম, ১৮ মে ২০২৬ | আপডেট: ১২:৪৫ এএম ২০২৬
আসন্ন বাজেটে কালোটাকা বৈধকরণের সুযোগ ফেরার ইঙ্গিত
ছবি

ছবি সংগৃহীত

আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে আবারও অপ্রদর্শিত আয় বা ‘কালোটাকা’ বৈধ করার সুযোগ ফিরতে পারে—এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানমুখী অন্তত ২০টির বেশি খাতে কর অবকাশ সুবিধা পুনর্বহালের পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বিনিয়োগ বাড়ানো ও অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে ভাবা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে বিনিয়োগ করলে ভবিষ্যতে সেই অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে না—এমন দায়মুক্তির ব্যবস্থাও থাকতে পারে।

এনবিআরের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তবে করহার ও কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্ত ঝুঁকি না থাকলে বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়বে—এই যুক্তিতেই পূর্ণ দায়মুক্তির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

অন্যদিকে, অর্থনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের একটি অংশ এই উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করেছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, এটি দুর্নীতিকে বৈধতা দেওয়ার শামিল এবং সৎ করদাতাদের জন্য বৈষম্যমূলক।

বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর একাধিকবার অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হলেও ২০২০–২১ অর্থবছরে মাত্র ১০ শতাংশ কর দিয়ে প্রায় ২০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বৈধ করা হয়, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে আরো এক দফা সুযোগ দেওয়া হলেও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তা ধাপে ধাপে বাতিল করা হয়।

বর্তমানে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগে সর্বোচ্চ কর ও জরিমানা মিলিয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ দিতে হয়। দায়মুক্তি না থাকায় বিনিয়োগে অনাগ্রহ বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টদের মত।

বাজেট আলোচনায় আরো জানা গেছে, নতুন করে ওষুধ, কৃষি যন্ত্রপাতি, অটোমোবাইল, ইলেকট্রনিকস, টেক্সটাইল যন্ত্রপাতি, প্লাস্টিক রিসাইক্লিং, চামড়া শিল্পসহ একাধিক খাতে কর অবকাশ পুনর্বহালের চিন্তা রয়েছে। এসব খাতে পূর্বে দীর্ঘমেয়াদি কর ছাড় সুবিধা দেওয়া হতো।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের নেতারা বলছেন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে কর সুবিধা জরুরি হলেও নীতির ধারাবাহিকতা না থাকলে আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, বাজেটের আকার বাড়লেও উন্নয়ন ব্যয়ের জায়গা সংকুচিত হচ্ছে ঋণের সুদ, ভর্তুকি ও বেতন-ভাতার চাপ বৃদ্ধির কারণে। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে অতিরিক্ত ব্যয় এক লাখ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রের ধারণা।

এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের শর্ত পূরণ, রাজস্ব ঘাটতি, মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংক খাতের দুর্বলতার মধ্যেই সরকারকে কঠিন ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট প্রণয়ন করতে হবে বলে বিশ্লেষকদের মত।
সানা/আপ্র/১৮/৫/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে: তথ্যমন্ত্রী
১৯ মে ২০২৬

দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে।...

পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকার প্রস্তাব!
১৯ মে ২০২৬

পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকার প্রস্তাব!

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার। পরিকল্প...

তিন ধরনের নতুন নোট ছাড়লো বাংলাদেশ ব্যাংক
১৯ মে ২০২৬

তিন ধরনের নতুন নোট ছাড়লো বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক ১০০০, ৫০০ ও ১০ টাকা মূল্যমানের নতুন ব্যাংক...

গ্রামীণ ব্যাংকের সুদহার কেন স্বাভাবিক ব্যাংকের মতো নয়, প্রশ্ন হাই কোর্টের
১৮ মে ২০২৬

গ্রামীণ ব্যাংকের সুদহার কেন স্বাভাবিক ব্যাংকের মতো নয়, প্রশ্ন হাই কোর্টের

গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার কেন দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সুদের হারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

গ্রামীণ ব্যাংকের উচ্চ সুদহার নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে হাইকোর্টের রুল জারি

গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার কেন দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সুদের হারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাই কোর্ট। আপনি কি মনে করেন- গ্রামীণ ব্যাংক সবচেয়ে চড়া সুদ আদায় করে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 13 ঘন্টা আগে