গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

দুই-তৃতীয়াংশ রায়, পূর্ণ দায়

গণতন্ত্রের পরীক্ষায় নতুন সরকার

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৩৫ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ০৫:২৩ এএম ২০২৬
গণতন্ত্রের পরীক্ষায় নতুন সরকার
ছবি

গণতন্ত্রের পরীক্ষায় নতুন সরকার

দীর্ঘ স্বৈরশাসন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার পর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে পটপরিবর্তনের সূচনা করেছিল, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তারই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়; এটি ছিল গণতান্ত্রিক প্রত্যাবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ভোটের অন্তর্ভুক্তি ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া জাতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২৯৭ আসনের মধ্যে ২০৯টিতে জয় পেয়েছে। তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও এবার প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, যারা পেয়েছে ৬৮টি আসন। দুই-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি এই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিএনপিকে সরকার গঠনের স্পষ্ট ম্যান্ডেট দিয়েছে। দলটির নেতারা একে ‘গণতন্ত্রের বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এই নির্বাচনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে গণভোট। সেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সুস্পষ্ট প্রাধান্য ইঙ্গিত করছে যে জনগণ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে গণভোটের প্রশ্ন ও প্রক্রিয়া নিয়ে যে বিতর্ক উত্থাপিত হয়েছে, তা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সংস্কারের বৈধতা শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর নয়, স্বচ্ছতা ও জনআস্থার ওপরও নির্ভরশীল।

নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় বিজয়ী ও পরাজিত উভয় পক্ষের বক্তব্যে রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা স্পষ্ট হয়েছে। বিএনপি বলছে, তারা আন্দোলনের সঙ্গীদের সঙ্গে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করতে চায়। অন্যদিকে জামায়াত ফলাফলে ‘গরমিল’ ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। গণতন্ত্রে বিরোধী কণ্ঠের ভূমিকা অপরিহার্য; তবে তা যেন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ভেতর থেকেই হয়-এ প্রত্যাশা সবার।

প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর আখ্যা দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও এসেছে অভিনন্দন বার্তা-যা নতুন সরকারের সামনে কূটনৈতিক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো অভ্যন্তরীণ ঐকমত্য ও আস্থা পুনর্গঠন।

দীর্ঘদিন পর এমন এক সংসদ গঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে পুরোনো দ্বিমুখী মেরুকরণের চেহারা বদলাচ্ছে। ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন বিএনপির জন্য যেমন ঐতিহাসিক মুহূর্ত, তেমনি এটি একটি বড় দায়ও। গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ছিল জবাবদিহি, সুশাসন ও নাগরিক অধিকারের পুনঃপ্রতিষ্ঠা। সেই চেতনাকে বাস্তবে রূপ দিতে না পারলে এই বিজয়ের তাৎপর্য ম্লান হয়ে যাবে।

বাংলাদেশ আজ এক নতুন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। প্রয়োজন প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, নীতিনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা; প্রয়োজন সংখ্যাগরিষ্ঠতার ঔদ্ধত্য নয়, সহনশীল নেতৃত্ব। বিজয়ী দল ও বিরোধী উভয়ের দায়িত্ব-এই নির্বাচনের ইতিবাচক বার্তাকে ধারণ করে একটি সুস্থ, অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্রের পথে দেশকে এগিয়ে নেওয়া। তাহলেই বলা যাবে, এই ভোট সত্যিই মুক্তির এবং গণতন্ত্রের পথে যাত্রার সূচনা।

সানা/আপ্র/১৫/২/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাই আরো সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগ
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাই আরো সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগ

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর মিছিল থামছে না। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা, দীর্ঘ হচ্ছে শোকাহত পরিবারের...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান জরুরি
২৮ অক্টোবর ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান জরুরি

স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর বাংলাদেশে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ দাফন নিয়ে বিরোধ, বাউলশিল...

পুলিশের হাত বাঁধা রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?
২৭ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশের হাত বাঁধা রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?

থানার সামনে লেখা থাকে, ‘সেবাই পুলিশের ধর্ম’। মানুষের সুস্থ, স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা এই অ...

শিশু নিপীড়নের বিচার হোক, মাদ্রাসায় জবাবদিহি নিশ্চিত হোক
২৬ অক্টোবর ২০২৬

শিশু নিপীড়নের বিচার হোক, মাদ্রাসায় জবাবদিহি নিশ্চিত হোক

একটি শিশুকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর সময় কোনো মা-বাবা কি কখনো কল্পনা করেন, সুশিক্ষা ও নিরাপদ ভবিষ্য...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে