গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

সাময়িক যুদ্ধবিরতি থেকে স্থায়ী শান্তির কৌশল নির্ধারণ জরুরি

সুখদেব কুমার সানা

সুখদেব কুমার সানা

প্রকাশিত: ১৫:৪৫ পিএম, ০৯ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২৩:৩৫ এএম ২০২৬
সাময়িক যুদ্ধবিরতি থেকে স্থায়ী শান্তির কৌশল নির্ধারণ জরুরি
ছবি

ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি নিঃসন্দেহে এক গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তির বার্তা। দীর্ঘদিন ধরে চলা সামরিক হামলা, প্রাণহানি এবং অবকাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞের প্রেক্ষাপটে এই বিরতি শুধু একটি কূটনৈতিক অগ্রগতি নয়; বরং একটি মানবিক প্রয়োজন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। তবে এই স্বস্তি ক্ষণস্থায়ী হয়ে থাকবে কিনা, নাকি এটি স্থায়ী শান্তির পথে রূপ নেবে, তা নির্ভর করছে বর্তমান সময়ের বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত ও কার্যকর কৌশলের ওপর। এই সংঘাতের বহুমাত্রিক প্রভাব ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছিল, তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি চাপে পড়ে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সেই চাপ কিছতা লাঘব হয়েছে-তেলের দাম কমেছে, শেয়ারবাজারে আস্থা ফিরেছে। এটি প্রমাণ করে, একটি আঞ্চলিক সংঘাত কত দ্রুত বৈশ্বিক অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে। ফলে এই বিরতিকে শুধুমাত্র সামরিক বিরতি হিসেবে না দেখে, বরং একটি অর্থনৈতিক ও মানবিক পুনরুদ্ধারের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানো প্রয়োজন। তবে বাস্তবতা হলো, এই যুদ্ধবিরতি এখনো ভঙ্গুর। একদিকে ইরান এটিকে ‘সাময়িক সুযোগ’ হিসেবে বিবেচনা করছে এবং প্রয়োজন হলে পুনরায় সংঘাতে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে; অন্যদিকে ইসরায়েল লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে যে, সংঘাতের মূল কারণগুলো এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। তাই কেবল অস্ত্রবিরতি নয়, প্রয়োজন মূল সমস্যাগুলোর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধান। এই প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি কেবল একটি বৈঠক নয়, বরং ভবিষ্যৎ শান্তির দিকনির্দেশনা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। এখানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উচিত পারস্পরিক অবিশ্বাস ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঊর্ধ্বে উঠে বাস্তবসম্মত সমঝোতায় পৌঁছানো। সামরিক শক্তির প্রদর্শন নয়, বরং সংলাপ, সমঝোতা এবং আস্থার ভিত্তিতেই স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকাও এখানে অপরিহার্য। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে এবং স্থায়ী সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। এখন প্রয়োজন তাদের সক্রিয় ও নিরপেক্ষ মধ্যস্থতা- যাতে কোনো পক্ষ একতরফা অবস্থান গ্রহণ করে পরিস্থিতিকে আবারো উত্তপ্ত করে তুলতে না পারে। একই সঙ্গে মানবিক সহায়তা জোরদার, বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই মুহূর্তে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পরীক্ষা। অতীত অভিজ্ঞতা বলে, অনেক যুদ্ধবিরতি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে কেবল আস্থার অভাব ও কৌশলগত অনমনীয়তার কারণে। এবার সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করা চলবে না। দুই সপ্তাহের এই সময়কে একটি কার্যকর রূপান্তরের পর্যায় হিসেবে ব্যবহার করতে হবে-যেখানে সাময়িক নীরবতা স্থায়ী শান্তির ভিত্তিতে পরিণত হবে। আমাদের প্রত্যাশা একটাই- এ যুদ্ধবিরতি যেন আরেকটি সংঘাতের প্রস্তুতি না হয়ে ওঠে। বরং এটি হোক স্থায়ী যুদ্ধ বন্ধের সূচনা। বিশ্ববাসী যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে মুক্তি চায়, চায় নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং মানবিক মর্যাদা। আমরাও যুদ্ধ চাই না, আমরা চাই শান্তি- একটি টেকসই, ন্যায়সঙ্গত ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি।

সানা/এসি/আপ্র/৯/৪/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাই আরো সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগ
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাই আরো সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগ

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর মিছিল থামছে না। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা, দীর্ঘ হচ্ছে শোকাহত পরিবারের...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান জরুরি
২৮ অক্টোবর ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান জরুরি

স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর বাংলাদেশে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ দাফন নিয়ে বিরোধ, বাউলশিল...

পুলিশের হাত বাঁধা রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?
২৭ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশের হাত বাঁধা রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?

থানার সামনে লেখা থাকে, ‘সেবাই পুলিশের ধর্ম’। মানুষের সুস্থ, স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা এই অ...

শিশু নিপীড়নের বিচার হোক, মাদ্রাসায় জবাবদিহি নিশ্চিত হোক
২৬ অক্টোবর ২০২৬

শিশু নিপীড়নের বিচার হোক, মাদ্রাসায় জবাবদিহি নিশ্চিত হোক

একটি শিশুকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর সময় কোনো মা-বাবা কি কখনো কল্পনা করেন, সুশিক্ষা ও নিরাপদ ভবিষ্য...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে