আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপী চাকরির বাজারে হুলুস্থুল ফেলে দিয়েছে। অফিসের কাজ, ব্যবসা, এমনকি সৃজনশীল ক্ষেত্রেও এর প্রভাব স্পষ্ট। হলিউডে এআই দিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা নির্মাণ নিয়ে চলছে বিতর্ক। তাই এই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মনেও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, ‘এআই কি আমাদের চাকরি নিয়ে নেবে?’
এআই আদতে কী করছে?
ডেটা বিশ্লেষণ করছে।
লেখা লিখছে।
ডিজাইন, লোগো বা ওয়েবসাইট বানাচ্ছে।
ছবি ও ভিডিও তৈরি, সম্পাদনা করছে।
গ্রাহক সেবা দিচ্ছে।
জটিল গাণিতিক সমাধান দিচ্ছে।
অর্থাৎ মানুষের অনেক কাজই এখন এআই করতে পারছে। আর সেটা করছে দ্রুত ও প্রায় নির্ভুলভাবে।
তাহলে কি চাকরি হারানোর ঝুঁকি আছে?
মানবিক দক্ষতা বাড়াতে পারলে, এআই সেই কর্মীর বিকল্প হতে পারবে না
মানবিক দক্ষতা বাড়াতে পারলে, এআই সেই কর্মীর বিকল্প হতে পারবে নাছবি: কবির হোসেন
হ্যাঁ, কিছু কাজের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আছে। বিশেষ করে একঘেয়ে নিয়মভিত্তিক কাজ, যেসব এআই সহজেই করতে পারে। যাঁরা নতুন কিছু শিখতে চান না, চাকরির বাজারে এআই তাঁদের জন্য হুমকি।
একমাত্র যে দক্ষতাটি আপনাকে বাঁচাতে পারে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে দক্ষতাটি চাকরির বাজারে আপনাকে নিরাপত্তা দিতে পারে, তা হলো পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা (অ্যাডাপটাবিলিটি)। কারণ, প্রযুক্তি দ্রুত বদলাচ্ছে। নতুন নতুন দক্ষতার চাহিদা তৈরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে যাঁরা দ্রুত শিখতে পারেন, সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারেন, চাকরির বাজারে তাঁরাই টিকে থাকবেন। সফল হবেন।
কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করবেন?
১. নতুন দক্ষতা
এআইয়ের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় টুল, নানা ডিজিটাল দক্ষতা, নতুন নতুন প্রযুক্তি শিখে ফেলুন।
২. পরিবর্তনকে ভয় না পেয়ে সাদরে গ্রহণ
‘এটা আমার কাজ নয়’-এই চিন্তা বাদ দিন। কর্মক্ষেত্রে মাল্টিটাস্ক করার চেষ্টা করুন।
৩. সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ান
এআই তথ্য দিতে পারে। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এখনো আপনার হাতে (মানুষের হাতে)। যেকোনো সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিন।
৪. মানবিক দক্ষতা (সফট স্কিল)
নিজের সফট স্কিল বাড়ান। যোগাযোগ, দলগত কাজ, নেতৃত্ব, সহানুভূতিশীলতা-এসব এআই সহজে রপ্ত করতে পারবে না।
৫. এআইকে কাজে লাগান
আদতে এআই কেবল চ্যালেঞ্জই নিয়ে আসেনি, এনেছে নতুন সুযোগও। এআইকে সঙ্গী করে কাজ করুন। এআই কেবল একটি টুল। আর আপনি সৃজনশীলতা, সিদ্ধান্ত ও মানবিকতার কেন্দ্র। সূত্র: হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ
সানা/ডিসি/আপ্র/২২/৪/২০২৬