ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এ হুমকির পর রোববার (১২ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ১০২ ডলারে পৌঁছেছে। একইভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রুড অয়েলের দামও ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের হুমকি প্রত্যাহার করে যুদ্ধবিরতির আলোচনা শুরু করতে সম্মত হওয়ার পর তেলের দাম কিছুটা কমেছিল। তবে, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি না হওয়ায় এবং নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
অবশ্য, এই পরিস্থিতিতে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে ইরান। গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য প্রতি জাহাজ থেকে প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল আদায় করছে তারা। গত মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১৮ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে দেশটি, যা আগের তিন মাসের তুলনায় অনেকটাই বেশি।
এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করতে গেলে যেকোনো সামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে ‘কঠোর ও চূড়ান্ত’ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ১০টা থেকে এই নৌ অবরোধ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম আরো বাড়তে পারে। বর্তমানে দেশটিতে প্রতি গ্যালন ফুয়েলের গড় মূল্য ৪.১২ ডলার; যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৩৮ শতাংশ বেড়েছে।
এসি/আপ্র/১৩/৪/২০২৬