প্রায় তিন মাস ধরে নিখোঁজ ছিলেন আলেয়া বেগম। আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, মাজার, হাসপাতালসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় স্ত্রীকে খুঁজেছেন স্বামী আলী হোসেন। অবশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওই তাঁকে স্ত্রীকে খুঁজে পেতে সহায়তা করেছে। ভিডিওতে রাস্তার পাশে বসে মানুষের কাছে খাবার চাইতে দেখা যায় এক নারীকে। ভিডিওটি দেখে তাঁকে নিজের স্ত্রী হিসেবে শনাক্ত করেন আলী হোসেন।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার গোবিন্দল এলাকায় গিয়ে রাস্তার পাশে স্ত্রীকে দেখতে পান তিনি। কাছে যেতেই আলেয়াও স্বামীকে চিনতে পারেন। দীর্ঘদিন পর স্ত্রীকে ফিরে পেয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন আলী হোসেন। স্বামীকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আলেয়াও।
আলী হোসেনের বয়স ৫৫ বছর। তিনি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি ইউনিয়নের ভাঙ্গাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় দরজি। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আলেয়া মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। প্রায় তিন মাস আগে অসুস্থ হয়ে তিনি আবার নিখোঁজ হন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০০১ সালে আলেয়াকে বিয়ে করেন আলী হোসেন। আলেয়ার বাবার বাড়ি ঢাকার ধামরাই উপজেলার বালিয়া এলাকায়। প্রায় ছয় বছর আগে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে রাজধানীর একটি মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসার পর সুস্থও হয়ে ওঠেন। প্রায় তিন বছর আগে অসুস্থ হয়ে নয় দিন নিখোঁজ থাকার পর তাঁকে খুঁজে পেয়েছিল পরিবার। সম্প্রতি আবার অসুস্থ হয়ে নিখোঁজ হন তিনি।
এবার নিখোঁজ হওয়ার পর নিজের নাম-ঠিকানাও ঠিকমতো বলতে পারছিলেন না আলেয়া। সিঙ্গাইরের গোবিন্দল গ্রামের রাস্তার পাশে কয়েক দিন ধরে তাঁকে ঘোরাফেরা করতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কখনো মানুষের কাছে খাবার চাইতেন, আবার কখনো রাস্তার পাশে বসে থাকতেন।
বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় কনটেন্ট নির্মাতা রবিউল হকের। আলেয়ার অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি একটি ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে প্রকাশ করেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার একপর্যায়ে তা আলী হোসেনের নজরে আসে। ভিডিওতে থাকা নারীকে নিজের স্ত্রী হিসেবে শনাক্ত করে তিনি দ্রুত গোবিন্দল এলাকায় ছুটে যান।
আলী হোসেন বলেন, ‘ভিডিওতে স্ত্রীকে দেখার পর আর নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি। দ্রুত সেখানে চলে যাই। কাছে গিয়ে দেখি, সত্যিই আমার স্ত্রী। আমাকে দেখেই সে চিনতে পারে। এত দিনের কষ্ট যেন এক মুহূর্তে শেষ হয়ে গেল। আমি তাঁকে ফিরে পেয়েছি-এটাই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ।’
তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রীকে নিয়ে আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। এবার প্রায় দুই মাস ২৩ দিন তাঁকে খুঁজেছি। কোথায় খুঁজিনি? আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, বিভিন্ন জায়গা-সবখানে খুঁজেছি। তাঁকে নিয়ে সব সময় দুশ্চিন্তায় ছিলাম।’
আলী হোসেন ও আলেয়া দম্পতির তিন সন্তান। তাঁদের বড় ছেলে ২৩ বছর বয়সী এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। আট বছর বয়সী আরেক ছেলে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। তাঁদের একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়েছে।
আলী হোসেন জানান, আলেয়া এখন মানসিকভাবে অনেকটাই সুস্থ। তবে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুর্বলতার কারণে তাঁকে সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
সানা/আপ্র/২/১০/২০২৬