কিক অফের পর থেকেই বাংলাদেশের রক্ষণে চাপ দিতে থাকল চীন। তবে পোস্টে বিশ্বস্ত দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেন মিলি আক্তার। অবশ্য প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষকে আটকে রাখতে পারলেও, দ্বিতীয়ার্ধে আর পারলেন না মিলি। পারল না বাংলাদেশও। থাইল্যান্ডের নন্থাবুরিতে এএফসি উইমেন’স অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপে ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ২-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ।
আসরে টানা দুই ম্যাচই হারল পিটার জেমস বাটলারের দল। ভিয়েতনামকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ পর্ব শুরু করা চীন টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়েও থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে হেরে আসর শুরু করা বাংলাদেশ এখনও পারেনি পয়েন্টের খাতায় আচঁড় ফেলতে।
তিন গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ এবং তৃতীয় হওয়া তিন দলের মধ্যে সেরা দুটি যাবে কোয়ার্টার-ফাইনালে। তৃতীয় হওয়া তিন দলের সেরা দুটির একটি হওয়ার আশা নিয়ে আগামী মঙ্গলবার ভিয়েতনামের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
শারীরিক গড়নে, কৌশলে-ঐতিহ্যে এগিয়ে থাকা চীন শুরু থেকে আধিপত্য করে। প্রথমার্ধে অবশ্য মিলির দৃঢ়তার পাশাপাশি ভাগ্যকেও পাশে পায় বাংলাদেশ। ষোড়শ মিনিটে গোলমুখে সুরমা জান্নাত বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে শট নেন লু জিয়াউই, কিন্তু অভাবনীয়ভাবে তার শট যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে।
এর একটু পর ওয়াং আই ফাংয়ের দূরপাল্লার ফ্রি কিকে বল অনেকটা লাফিয়ে ওঠা মিলির গ্লাভস ছুঁয়ে ক্রসবার কাঁপিয়ে ফিরে। ৩৫তম মিনিটে বাংলাদেশ কোচ পিটার জেমস বাটলার একটি পরিবর্তন আনেন।
শান্তি মার্দিকে তুলে নামান মুনকি আক্তারকে। একটু পর আবারও দলকে বাঁচান মিলি। সতীর্থের থ্রু পাসে বল আলতো টোকায় দুই ডিফেন্ডারের ফাঁক দিয়ে বের করে মিলিকে একা পেয়ে যান ইউ জিংউই। বিপদ টের পেয়ে দ্রুত পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে এই ফরোয়ার্ডের শট ঝাঁপিয়ে আটকান মিলি।
বিরতির বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে প্রথম উল্লেখযোগ্য আক্রমণ শাণায় বাংলাদেশ। সতীর্থের লং পাস ধরে বাম দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে দূরূহ কোণ থেকে চিপ শট নেওয়ার চেষ্টা করেন সাগরিকা, কিন্তু শট ঠিকঠাক না হওয়ায় সহজেই ফেরান লিউ চেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বাংলাদেশের দেয়ালে চিড় ধরে। ৪৭তম মিনিটে জেং ইউ জুইয়ার কাট ব্যাক পেয়ে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান ইউ জিংউই।
শেষ দিকে আক্রমণ আরও বাড়ায় চীন এবং ৮২তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল পায় তারা। ওয়াং আই ফাংয়ের জোরাল ফ্রি কিক রক্ষণ দেয়ালের পাশে দিয়ে বেরিয়ে, ঝাঁপিয়ে পড়া মিলির গ্লাভস ছুঁয়ে জালে জড়ায়।
এর একটু পর মিলিকে একা পেয়ে বক্সের ভেতর থেকে ক্রসবারের ওপর দিয়ে মেরে ভালো সুযোগ নষ্ট করেন ইউ জিয়াকি। তাতে অবশ্য প্রতিযোগিতার ২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়নদের জয়ের আনন্দে ভাটা পড়েনি।
ডিসি/আপ্র/০৪/০৪/২০২৬