গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

মেনু

ডিজেল সংকট ও লোডশেডিংয়ে কৃষিতে বিপর্যয়

জেলা প্রতিনিধি, পাবনা

জেলা প্রতিনিধি, পাবনা

প্রকাশিত: ১২:১৬ পিএম, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ০৬:২১ এএম ২০২৬
ডিজেল সংকট ও লোডশেডিংয়ে কৃষিতে বিপর্যয়
ছবি

ছবি সংগৃহীত

পাবনায় তীব্র লোডশেডিং ও ডিজেল সংকটে সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির খবরে জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তির আভাস মিললেও তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব জেলার কৃষিখাতে পড়েনি বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।

প্রতিদিন ভোর থেকে জেলা ও উপজেলা শহরের বিভিন্ন পাম্পে বড় বোতল ও পাত্র নিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ালেও অনেক কৃষকই কাঙ্ক্ষিত ডিজেল পাচ্ছেন না। যারা পাচ্ছেন, তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে খরার সময়ে জমিতে প্রয়োজনীয় সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

চর সদিরাজপুরের কৃষক রতন হোসেন জানান, কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন পাম্পে ঘুরেও তিনি ডিজেল পাননি। ২ থেকে ৩ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হয়েছে বলে তিনি জানান। এতে তার কৃষিকাজ ও যানবাহন চালানো দুটোই ব্যাহত হচ্ছে।

ভাঁড়ারা গ্রামের কৃষক কামরুল হাসান বলেন, শ্যালো ইঞ্জিন ও ট্রাক্টর চালাতে প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় ধান ও পাট আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জমিতে সেচ না দেওয়ায় ফসলের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে।

অন্যদিকে জেলার সাঁথিয়া ও বেড়া উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেচ প্রকল্প থাকলেও অধিকাংশ খাল অকেজো হয়ে পড়ায় কৃষকরা আবারো ডিজেলচালিত শ্যালো ইঞ্জিনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এতে খরচ বেড়েছে এবং সংকট আরো তীব্র হয়েছে।

সাঁথিয়া উপজেলার বাওইকোলা গ্রামের কৃষক হাসান আলী জানান, প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে। এতে ধান ছাড়াও তিল, পাট ও সবজি আবাদে ক্ষতি হচ্ছে।

এদিকে বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পেও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। ফলে একই সঙ্গে ডিজেল ও বিদ্যুৎ-দুই দিকেই ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।

চাটমোহর উপজেলার এক কৃষক জানান, গত কয়েক সপ্তাহের লোডশেডিং পরিস্থিতি কিছুটা কমলেও ডিজেল সংকট থাকায় সেচ কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়নি।

পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানায়, কিছু এলাকায় লোডশেডিং কমানো হয়েছে এবং বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহ তুলনামূলক স্বাভাবিক রয়েছে। অন্যদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, সীমিত সংকট থাকলেও কৃষকেরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল পাচ্ছেন এবং ধান কাটার সময় ঘনিয়ে আসায় বড় ধরনের উৎপাদন ক্ষতির সম্ভাবনা কম।

তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি কৃষকের পরিচয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করায় প্রকৃত কৃষকদের ভোগান্তি বাড়ছে। এ বিষয়ে সমন্বিতভাবে নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে।
সানা/আপ্র/২৮/৪/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

চার বছরে একদিনও গোয়ালঘর থেকে বের হয়নি ‘জমিদার’
১৬ মে ২০২৬

চার বছরে একদিনও গোয়ালঘর থেকে বের হয়নি ‘জমিদার’

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এক বিশাল আকৃতির গরু ‘জমিদার’ এখন স্থানীয়দের আলো...

রাজশাহীতে গুটি আম সংগ্রহ শুরু
১৫ মে ২০২৬

রাজশাহীতে গুটি আম সংগ্রহ শুরু

জ্যৈষ্ঠের প্রথম দিনেই রাজশাহীতে বাগান থেকে আম নামানো শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত ‘ম্যাংগো ক...

নগদ অর্থ ও ঋণের চাপে কম দামে ধান বিক্রিতে বাধ্য হন কৃষক
১০ মে ২০২৬

নগদ অর্থ ও ঋণের চাপে কম দামে ধান বিক্রিতে বাধ্য হন কৃষক

সেচের জন্য ডিজেল, ধান মাড়াইয়ের জন্য যন্ত্র, এমনকি ধান শুকানোর কাজেও জ্বালানির প্রয়োজন- সবখানেই অতিরি...

প্রকৃতি কেড়ে নিয়েছে হাওরপাড়ের কৃষকের হাসিসহ বাঁচার শক্তি
১০ মে ২০২৬

প্রকৃতি কেড়ে নিয়েছে হাওরপাড়ের কৃষকের হাসিসহ বাঁচার শক্তি

হাওরকন্যা নামে পরিচিত সুনামগঞ্জে বিস্তীর্ণ হাওরজুড়ে এখন আর নেই সবুজের সমারোহ। প্রকৃতির রোষানলে বিপন্...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

গ্রামীণ ব্যাংকের উচ্চ সুদহার নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে হাইকোর্টের রুল জারি

গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার কেন দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সুদের হারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাই কোর্ট। আপনি কি মনে করেন- গ্রামীণ ব্যাংক সবচেয়ে চড়া সুদ আদায় করে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 13 ঘন্টা আগে