গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

মেনু

দেশেই ডেঙ্গু-হামের টিকা ও অ্যান্টিভেনম উৎপাদন করবে সরকার

স্বাস্থ্য ডেস্ক

স্বাস্থ্য ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩৫ পিএম, ০৯ মে ২০২৬ | আপডেট: ১০:০৬ এএম ২০২৬
দেশেই ডেঙ্গু-হামের টিকা ও অ্যান্টিভেনম উৎপাদন করবে সরকার
ছবি

ছবি সংগৃহীত

দেশে প্রথমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক ও হামের টিকা এবং সাপের কামড়ের প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম উৎপাদন করতে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল)। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের জনস্বাস্থ্যের বড় চারটি উদ্বেগের সমাধান হওয়ার পাশাপাশি সাশ্রয় হবে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা।

এসেনশিয়াল ড্রাগসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এ সামাদ মৃধা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে জরুরি ভিত্তিতে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে এসব টিকা ও অ্যান্টিভেনম সরকারের কাছে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

ইডিসিএল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করেই এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে, যেখানে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটি চালু হলে বছরে প্রায় ৯০ লাখ থেকে ১ কোটি ভায়াল টিকা উৎপাদন করা সম্ভব হবে। বর্তমানে দেশে এই চার ধরনের টিকার বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ ডোজ। ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত টিকা বিদেশে রপ্তানির সুযোগও তৈরি হবে।

বর্তমানে সরকার এসব টিকা চড়া দামে বিদেশ থেকে আমদানি করে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন শুরু হলে আমদানিকৃত মূল্যের প্রায় অর্ধেক দামে এসব টিকা সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে সরকারের ব্যয় কমার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য টিকার সহজলভ্যতা বাড়বে।

দেশে বর্তমানে জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক। এ বছর হামের প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ৩২০ জনের বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার শিশু। অন্যদিকে ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৪১৩ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজারের বেশি মানুষ। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, ইডিসিএল ডেঙ্গু প্রতিরোধে ‘কিউডেঙ্গা’ টিকা উৎপাদন করার পরিকল্পনা করছে।

এছাড়া দেশে প্রতি বছর প্রায় ৪ লাখ মানুষ সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়, যার মধ্যে সাড়ে সাত হাজারেরই মৃত্যু ঘটে। অথচ দেশে বর্তমানে অ্যান্টিভেনম উৎপাদনের কোনো ব্যবস্থা নেই। জলাতঙ্ক নিরোধী টিকারও তীব্র সংকট রয়েছে হাসপাতালগুলোতে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এই সংকটগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই তাৎক্ষণিক প্রকল্পের পাশাপাশি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে বড় ধরনের আরেকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এসেনশিয়াল ড্রাগস। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে সেখানে প্রায় ১০ একর জমির ওপর একটি গবেষণা ও উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০৩২ সালের মধ্যে এই কেন্দ্রে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলো সফল হলে ওষুধ ও টিকা উৎপাদনে বাংলাদেশ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

এসি/আপ্র/০৯/০৫/২০২৬

 

 

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

দেশের সকল চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল
১৯ মে ২০২৬

দেশের সকল চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল

দেশজুড়ে শিশুদের মাঝে হামজনিত নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য...

হাম রোগীর জন্য আলাদা ওয়ার্ড বাধ্যতামূলক: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
১৯ মে ২০২৬

হাম রোগীর জন্য আলাদা ওয়ার্ড বাধ্যতামূলক: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

দেশজুড়ে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সরকারি ও বেসরকারি সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হাম ও...

ভারতে ক্যানসারের ইনজেকশন, প্রতি ডোজের দাম কত
১৮ মে ২০২৬

ভারতে ক্যানসারের ইনজেকশন, প্রতি ডোজের দাম কত

ক্যানসার চিকিৎসায় এক বড় মাইলফলক স্পর্শ করলো ভারত। ফুসফুসের ক্যানসার রোগীদের জন্য মাত্র সাত মিনিটের এ...

টিকা সংকট সরকারকে বহুবার সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ
১৮ মে ২০২৬

টিকা সংকট সরকারকে বহুবার সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ

দেশে টিকার ঘাটতি, রোগ বিস্তার ও শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে বহুবার সতর্ক করার কথা জা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

গ্রামীণ ব্যাংকের উচ্চ সুদহার নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে হাইকোর্টের রুল জারি

গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার কেন দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সুদের হারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাই কোর্ট। আপনি কি মনে করেন- গ্রামীণ ব্যাংক সবচেয়ে চড়া সুদ আদায় করে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 14 ঘন্টা আগে