গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

মেনু

শিশু নিবিড় হত্যায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের ২১ বছরের আটকাদেশ

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:২১ পিএম, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১২:৩৬ এএম ২০২৬
শিশু নিবিড় হত্যায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের ২১ বছরের আটকাদেশ
ছবি

ছবি সংগৃহীত

শরীয়তপুরে আলোচিত পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হৃদয় খান নিবিড়কে হত্যার দায়ে দুজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একজনকে ২১ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন শাকিল হোসেন গাজী (১৯) ও সিয়াম হোসেন (২০)। ১৬ বছর বয়সী কিশোর আসামিকে ২১ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ১ আগস্ট বিকেলে খেলাধুলার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় সদর উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের খিলগাঁও এলাকার প্রবাসী মনির খান ও নিপা আক্তার দম্পতির ছেলে শিশু হৃদয় খান নিবিড়। সেদিন সন্ধ্যায় নিবিড়ের মা নিপা আক্তারের ফোনে কল করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন অপহরণকারীরা। বিষয়টি পুলিশকে জানালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সদর উপজেলার খিলগাঁও এলাকার শাকিল হোসেন গাজী, পাবনার সিংঙ্গা এলাকার সিয়াম হোসেন ও খিলগাঁও এলাকার ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন সকালে বাড়ির অদূরে পরিত্যক্ত জমি থেকে উদ্ধার করা হয় নিবিড়ের মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ।

এ ঘটনায় নিহতের দাদা মমিন আলী খান বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে শরীয়তপুর চিফ জুডিসিয়াল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আসামিরা।

মামলাটি প্রথমে পালং মডেল থানার এক কর্মকর্তা তদন্ত করেন। এরপর মামলাটি তদন্ত করে ২০২৪ সালের ১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দীর্ঘ দুই বছর ৫ মাস পর ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে মঙ্গলবার দুপুরে বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন।

এদিকে আসামিদের এজলাস থেকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা হামলার চেষ্টা চালায়। এসময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহত শিশু হৃদয় খান নিবিড়ের বাবা মনির হোসেন খান বলেন, ‌‘আমি দীর্ঘদিন প্রবাসী ছিলাম। হত্যাকারীরা আমার ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ দেওয়ার আগে তারা আমার ছেলেকে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে রাখে।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ দুই বছর ৫ মাস পর আমার ছেলের হত্যার রায় হয়েছে। দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় আমরা খুশি। অতিদ্রুত যেন এই রায় কার্যকর করা হয়।’

মা নিপা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ফুলের মতো শিশু ছিল। ওকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে আমি কখনো মানতে পারিনি। আমার ছেলেকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, অপরাধীদের যেন সেভাবে দ্রুত ফাঁসি দেওয়া হয়।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান রোকন বলেন, ‘আমার মক্কেল সঠিক রায় পেয়েছেন। তবে যাকে আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে, তার ব্যাপারে বাদীপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আপিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

এসি/আপ্র/১৩/০১/২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

ফুটপাতে হকারদের জায়গা বরাদ্দ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট
১৯ মে ২০২৬

ফুটপাতে হকারদের জায়গা বরাদ্দ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট

রাজধানী ঢাকার রাস্তায় ও ফুটপাতে হকারদের জায়গা বরাদ্দ দেওয়া কেন অবৈধ ও বেআইনি হবে না, তা জানতে চেয়ে র...

সৌদি প্রবাসীকে ৭ টুকরা করেন পরকীয়া প্রেমিকা
১৮ মে ২০২৬

সৌদি প্রবাসীকে ৭ টুকরা করেন পরকীয়া প্রেমিকা

রাজধানীর মুগদার মান্ডা এলাকা থেকে উদ্ধার খণ্ডিত মরদেহের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির পরিচয়...

আড়াইশ কোটি টাকার শেয়ার কেলেঙ্কারি, সাকিবসহ ১৫ জনের নথি জব্দ
১৮ মে ২০২৬

আড়াইশ কোটি টাকার শেয়ার কেলেঙ্কারি, সাকিবসহ ১৫ জনের নথি জব্দ

সম্প্রতি বেশকয়েকটি সাক্ষাৎকারে শেয়ার মার্কেটের দুর্নীতির তদন্ত চেয়েছেন সাকিব আল হাসান। এর মধ্যেই আড়া...

আরো দুই মামলায় আইভীর জামিন বহাল
১৭ মে ২০২৬

আরো দুই মামলায় আইভীর জামিন বহাল

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আরো দুই হত্যা মা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

গ্রামীণ ব্যাংকের উচ্চ সুদহার নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে হাইকোর্টের রুল জারি

গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার কেন দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সুদের হারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাই কোর্ট। আপনি কি মনে করেন- গ্রামীণ ব্যাংক সবচেয়ে চড়া সুদ আদায় করে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 14 ঘন্টা আগে